যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত : জড়িতদের বিচার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি হাসনাতের
পালস নিউজ বিডি : যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়ায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা স্থগিত করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
পরে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, টেকনিক্যাল মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রশ্নফাঁসের কারণে তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর যে আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি হয়েছে, তার দায় কে নেবে?
পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার ও শাস্তি কার্যকরের দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেন। প্রশ্নফাঁসের চক্র ভাঙতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ব্যর্থ হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় রাজধানীতে এসেছেন।
অথচ আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা শুরুর ঠিক পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনাকে ‘নির্মম রসিকতা’ উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। আবার পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে, যা জনগণের টাকা। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
হাসনাতের ভাষ্য, পরীক্ষার্থীদের অনেকেই চরম হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। পরে আবার ধারদেনা করে ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু পুনরায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা থাকলে তাঁরা কীভাবে নিশ্চিন্তে পরীক্ষায় অংশ নেবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, বছরের পর বছর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা না হওয়ার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠছে। বেকার তরুণদের অর্থ ও স্বপ্ন নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০০টির বেশি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের দেশে কর্মসংস্থানের চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থের বিনিময়ে পদ বিক্রির অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মতামত দিন