গয়নার ঝলকে বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভ্যাল অনুষ্ঠিত
পালস নিউজ বিডি :
সোনার গয়নার ঝলক, হীরাখচিত অলংকার আর মনোমুগ্ধকর ফ্যাশন শো, সমিলিয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভ্যাল। গতকাল সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দেশের জুয়েলারিশিল্পের ঐতিহ্য, নান্দনিকতা এবং আধুনিক ডিজাইনের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আয়োজিত এই কার্নিভ্যালে দেশের খ্যাতনামা জুয়েলারি ব্র্যান্ডগুলো তাদের সেরা ও সর্বাধুনিক ডিজাইনের অলংকার প্রদর্শন করে।
অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান দেশীয় জুয়েলারি শিল্পকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের নীতিগত সংস্কার ও রূপরেখা তুলে ধরেন।
বাজুস জানায়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা দেশের প্রায় ৪০,০০০ প্রতিষ্ঠান ও ৪ লাখ কারিগরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর। এসময় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। এই অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি বাজুসের মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বমানের জুয়েলারি রপ্তানি করা। শিল্পের মূল বাধা হিসেবে নীতিমালার অস্পষ্টতাকে চিহ্নিত করে বলা হয়, বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে আমদানির পথ সহজ করা হলে স্থানীয় বাজারে ভরিপ্রতি অন্তত ৩০ হাজার টাকা কম মূল্যে অলংকার বিক্রি সম্ভব।
‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়িত হলে সরকার এ খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব পাবে। এ ছাড়া বাজারে জমে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দিলে সরকার ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ এবং দেশের মোট মজুতের একটি ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করতে পারবে।
দেশীয় কারিগরদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ৫০ হাজার প্রত্যক্ষ ও ১ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জিডিপিতে ০.৫% অতিরিক্ত অবদান রাখবে। এ লক্ষ্যে ঢাকার মধ্যে ১০ বিঘা জমির ওপর একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘স্বর্ণপল্লী’ বরাদ্দের জোরালো দাবি জানানো হয়।
সেইসঙ্গে ২০০৬ সালের সেকেলে অমসৃণ হীরা আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ও আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কহার কমিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, প্রস্তাবিত ‘স্বর্ণপল্লী’তে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট করা গেলে ৫-১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান এবং ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড জুয়েলারি রপ্তানি সম্ভব। যুগোপযোগী নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে আমদানির পথ সুগম করা হলে আগামী ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সোনা ও হীরার অলংকার রপ্তানি করে এ খাতকে দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়।
মতামত দিন