ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা নানা কৌশলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে : প্রধানমন্ত্রী
পালস নিউজ বিডি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজনীতি, শাসন ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই, তারা নানা কৌশলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সরদার সাখাওয়াত হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছে। দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সেই অবস্থা থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর কাজ চলছে।”
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয় রয়েছে ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরোও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ প্রতিটি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে সরকার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে স্বাস্থ্য খাতে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসবে না উল্লেখ করেন তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের দায়িত্বে নিবেদিত থাকতে হবে। চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা শৈথিল্য সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা তৈরি করে।
চিকিৎসকদের আরো দায়িত্বশীল, মানবিক ও সেবামুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরো মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে। সবাইকে নিয়ে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না।
তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অন্যতম নীতি হচ্ছে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’। মানুষকে রোগের কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে শুরুতেই সচেতন করা গেলে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান ব্যবস্থার পাশাপাশি আরো এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন করবেন।
চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবাকে আরো কার্যকর ও জনবান্ধব করতে ড্যাবের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে দ্রুত ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছর করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা এবং চিকিৎসক ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন।
এ ছাড়া উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনা, বেসরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য ন্যায্য বেতন কাঠামো এবং রাজধানীর বাইরে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, এসব প্রস্তাব অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যে শিশু হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে বেশ কিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের অন্যান্য প্রস্তাবও ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।
মতামত দিন