কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, লুটপাট
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’-এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তার স্টুডিও যে আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত, সেই নিউ গিনি প্রোপার্টিজের অফিসসহ আশপাশেও ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য, হামলাকারীদের নিশানায় ওই স্টুডিও ছিল না; জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ‘সেখানে জায়গা নিয়ে ঝামেলার কারণে এক পক্ষ মধ্যরাতে জায়গা দখল করতে যায়। এসময় টিনশেড ঘরে ভাড়া থাকা স্টুডিওটি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।’
ঘটনার পরে স্টুডিওতে এসে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘একটা শুটে কত খরচ হয় আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০টা ক্লায়েন্টের যখন সবকিছু নিয়ে যায়, কত ক্ষতি হতে পারে—এটা যদি চোখ বন্ধ করেও কিছু একটা ধারণা করা হয়...‘আমি ভাবছিলাম আমার প্রতি শত্রুতা, বাট দেখলাম যে পুরা প্রজেক্টেই ওরা হামলা করছে। সো প্রজেক্ট রিলেটেড কিছুই হইছে—এতটুক আমি শিওর।’
তিনি বলেন, এটা ভাঙচুর না, এটা হচ্ছে পুরোপুরি রবারি, চাঁদাবাজি, ডেস্ট্রাকশন, বাংলাদেশের কমন... তো বেকারত্ব যখন আপনি দূর করতে পারবেন না, যখন আপনার ল অ্যান্ড অর্ডারস থাকবে না, এটাই এন্ড রেজাল্ট। লাকিলি আমার পক্ষে এটা কোপ-আপ করা সম্ভব।
রাতের বেলা ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে দুজন ছিলেন। ঘটনার বর্ণনায় তাদের একজন বলেন, ‘১০০-১৫০ জনের মতো লোক এসে শাটারগুলো কোপানো শুরু করে। ওরা খুব দ্রুত ভেতরে চলে আসছে। আসার পর সবকিছু ভাঙচুর করছে। এখানে মালামাল যা ছিল সবকিছু নিয়ে নিয়ে গেছে। আর যেটা নিতে পারে নাই, সেটা ভেঙেচুরে রেখে গেছে।’
‘আমরা ওয়াশরুমের মধ্যে লুকিয়ে ছিলাম। পরে ওইখানে দুইজন গেছে, ওদের হাতে এরকম বড় সাইজের চাপতি ছিল, গান ছিল। ওরা গিয়েই বলতেছে, ‘তোমাদের কাছে যার কাছে যা আছে, ওটা দিয়ে দাও’। ফোন নিছে, মানিব্যাগ—যার কাছে যা ছিল সবকিছুই নিয়ে গেছে। ওরা মনে করেন ছোট ছোট কাপড়ের টুকরাও রাখে নাই, সবগুলাই নিয়ে গেছে।’
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে অবস্থিত নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পটি প্রায় ৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠছে।
নিউ গিটি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া রাতে বলেন, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন রকম চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি, জমি দখলসহ নানান ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের সাথে করে আসতেছে।
আজকে সাড়ে ১০টা নাগাদ প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ সবাই অস্ত্র নিয়ে ৪০ থেকে ৫০টা ফায়ার করছে। ফায়ার করে গেট ভেঙে ফেলছে। হার্ডডিস্কসহ সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। টাকা ছিল, ফোন ছিল।
হামলাকারীরা নিউ গিনি প্রোপার্টিজের প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুট করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্মাণাধীন এ আবাসিক এলাকায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কয়েকজনকে কোপানোর পাশাপাশি মারধরও করা হয়।
তাদের একজন বলেন, পিস্তল দিয়ে গুলি কইরা পরে ভিতরে ঢুকছে। পরে ভিতর থাইকা সব মালছামান নিয়ে আসছে। ওরা অসংখ্য়...কয়েকজন লোক আইসা আমাদের রুমে ঢুকছে। তারপর আমাদের টাকা-পয়সা যা আছিলো সবকিছু নিয়ে গেছে। আমাদের কিছু লোকেরে চাকু মাইরা আঘাত করছে। কারও মাথায় বাড়ি দিছে।
সালমান মুক্তাদির বলেন, আমি সবসময় নিজের দমে কাজ করে আসছি, সেইম জিনিস আমি করব, আমাকে এটা ভাঙতে পারবে না, দ্যাটস দ্যা ফার্স্ট থিং। বাট টেনশন হচ্ছে যে আমার মতো এরকম মনোবল নিয়ে কয়জন আগাইতে পারবে?
...আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, উনি অবশ্যই এগুলো ভিডিও হয়তো দেখেন। উনাকে যদি কিছু বলা হয়, আমি জানি না উনি কতদূর স্বীকার করেন নাকি। বাট উনার প্রতি আমার আসলে কোনো রাগ নাই, কোনো কমপ্লেইন নাই, কোনো চাহিদা নাই।
...বিএনপির একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বা দেশের একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উনার যা করার কথা, উনি ভালো করেই জানেন। আর উনি কতদূর করছেন সেটাও অবশ্যই আমরা দেখতে পারি সবাই, এটা তো আমি বলার কেউ না। আপনারা আছেন, দেশবাসী আছে, তারাই কমেন্টে বলে দিতে পারবে যে উনি কত ভালো কাজ করছেন। আর আমার মুখ থেকে আসলে বলার মতো আর কিছু নাই।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হক রোববার সকালে বলেন, হামলা-লুটপাটের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
মতামত দিন