অনিয়মের অভিযোগ ঝাড়খন্ডে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, আটক ৮
পালস নিউজ বিডি: নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের ঝাড়খন্ডে চলমান আন্দোলনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্যরা।
শুক্রবার ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং ৮ থেকে ১০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এবিভিপির ঝাড়খন্ড শাখা এই মিছিলের আয়োজন করে। রাঁচির ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার কথা ছিল।
আন্দোলন ঘিরে রাজ্য সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিজেপির বিধায়কেরা ঝাড়খন্ড বিধানসভায় বিক্ষোভ করে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও দুর্নীতি দমন ব্যুরোর তদন্তে শিক্ষার্থীদের আস্থা নেই। তবে সরকার বলছে, অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঝাড়খন্ডের ১৪তম লোকসেবা কমিশনের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
গত ২৫ জুলাই রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ঝাড়খন্ড লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খন্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন তারা।
এরপর টানা দুই সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা বাতিল, অনিয়মের স্বাধীন তদন্ত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি, পুরো ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা অথবা ঝাড়খন্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে করতে হবে। পাশাপাশি ঝাড়খন্ড লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খন্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগও নিয়েছে রাজ্য সরকার। শনিবার বিক্ষোভকারী চাকরিপ্রার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে নিয়োগব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এরই মধ্যে ছয় বিক্ষোভকারী অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা আগামী ১০ আগস্ট ঝাড়খন্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন রাজ্য সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মতামত দিন